জানার কোন অন্ত নাই, জানার ইচ্ছা বৃথা তাই, ভেবে যদি জানার ইচ্ছাকে দমন করে রাখা হয় তবে সে জীবনের কোন অর্থ নাই। কিন্তু সব জানতে হবে এমন কোন কথা নাই, তবে জানার ইচ্ছা থাকা চাই। আমাদের এই জানা জানির ইচ্ছাকে সূত্র করে, আমাদের ছোট্ট একটি প্রয়াস ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেইজটি। আমাদের জানতে চাওয়ার ইচ্ছা পুরনের লক্ষে কখনো জেনেছি মহাকাশ নিয়ে, কখনো জেনেছি সমুদ্র নিয়ে, কখনো ডুব দিয়েছি কৌতুক এর মাঝে, আবার ভয়ে কেঁপেছি ভুতের গল্প পড়ে, কখনোবা শিউরে উঠেছি কিছু মানুষের কার্যকলাপ জেনে। কখনো জেনেছি নতুন আবিষ্কারের কথা, আবার জেনেছি আদি ঐতিহ্যের কথা, এত সব কিছু করেছি শুধু জানতে চাওয়ার ইচ্ছা থেকে। সর্বশেষে ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেজ এর পক্ষ হতে আপনাকে স্বাগতম জানাই।

শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

এয়ার ফোর্স ওয়ান, যাকে ঘিরে রহস্যের শেষ নেই

মার্কিন প্রেসিডেন্টের উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত বিমান৷ সেই এফডিআর-এর ‘ডিক্সি ক্লিপার’ থেকে বর্তমানের ‘বোয়িং ৭৪৭’, এয়ার ফোর্স ওয়ানের ইতিহাস এক নজরে দেখে নেই চলুন৷


প্রেসিডেন্টের বিমানযাত্রার সূচনাঃ
এয়ার ফোর্স ওয়ান আসলে একটি সুনির্দিষ্ট প্লেনের নাম নয়, বরং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা মার্কিন এয়ার ফোর্সের যে বিমান প্রেসিডেন্টকে বহন করে সেটিকে এই নামে আখ্যায়িত করে৷ ১৯১০ সালে থিয়োডোর রুসভেল্ট কার্যত অল্পক্ষণের জন্য একটি এয়ারক্রাফটে চড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান যাত্রার সূচনা করেন৷


‘ডিক্সি ক্লিপারের’ ইউরোপ যাত্রাঃ
ফ্র্যাংকলিন ড. রুসভেল্ট হচ্ছেন প্রথম ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট যিনি আকাশে ওড়েন৷ ১৯৪৩ সালে তাঁকে নিয়ে বোয়িং ৩১৪ ক্লিপার ফ্লায়িং বোট ‘ডিক্সি ক্লিপার’ ৮,৮৫১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে কাসাব্লাংকা কনফারেন্সে আসে৷ সেখানে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণে উইন্সটন চার্চিল এবং শার্ল দ্য গোলের সঙ্গে বৈঠক করেন৷ ফিরতে পথে বিমানটির খাবার ঘরে জন্মদিন পালন করেন প্রেসিডেন্ট রুসভেল্ট৷


প্রেসিডেন্টের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিমানঃ
১৯৪৫ সালে ফ্র্যাংকলিন ড. রুসভেল্টের জন্য সি-৫৪, যেটির ডাকনাম ছিল ‘সেকরিড কাউ’, অর্ডার দেয়া হয়৷ এটা হচ্ছে মার্কিন ইতিহাসে প্রথম বিমান, যেটি শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়৷ এতে রেডিও টেলিফোন, ঘুমানের জায়গা এবং একটি সংকোচনীয় লিফটও ছিল৷ তবে মৃত্যুর আগে শুধুমাত্র একবার বিমানটি ব্যবহার করতে পেরেছিলেন রুসভেল্ট৷


জেট যুগে প্রেসিডেন্টের বিমান যাত্রাঃ
জেট প্রযুক্তির কারণে গত শতকের ষাটের দশক থেকে রাষ্ট্রপ্রধানদের মুখোমুখি বৈঠক নিয়মিত ব্যাপার হয়ে ওঠে৷ ১৯৭২ সালে স্পেশাল এয়ার মিশন (এসএএম) ২৬০০০-এ চড়ে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে চীন সফর করেন নিক্সন৷ ফার্স্ট লেডি জেকি কেনেডি এয়ার ফার্স ওয়ানের বর্তমানের আইকনিক ট্রেডমার্ক: গাঢ় নীল এবং উজ্জ্বল সাদা রং এবং তার উপরে লেখা ইউনাইটেড স্টেটস অফ অ্যামেরিকা-র নকশা করেছিলেন৷


এয়ার ফোর্স ওয়ানের অভ্যন্তরীণ রূপঃ
প্রয়োজনমতো পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭-২০০বি বিমান ৭৬ জন যাত্রী এবং ২৬ জন ক্রু পরিবহণে সক্ষম৷ এটির উপরের ডেকে থাকা কমিউনিকেশন রুম থেকে প্রেসিডেন্ট চাইলে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন৷ পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে বাঁচতে বিমানটির বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে৷


আপদকালীন কমান্ড সেন্টারঃ
এয়ার ফোর্স ওয়ান শুধু একটি ট্রান্সপোর্ট নয়৷ এই বিমানে বসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কার্যত বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে দেশ পরিচালনা করতে পারেন৷ এ জন্য বিমানটিকে বলা হয় ‘উড়ন্ত ওভাল অফিস’৷ ছবিতে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ উড়ন্ত বিমানে আপদকালীন বৈঠক করছেন৷


ভবিষ্যতের এয়ার ফোর্স ওয়ানঃ
পরবর্তী প্রেসিডেন্সিয়াল বিমানটি হবে একটি বোয়িং ৭৪৭-৮৷ এটিতে থাকবে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস প্রতিরোধক ব্যবস্থা, উড়ন্ত অবস্থায় তেল ভরার ক্ষমতা এবং সম্ভবত আরো আধুনিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম৷ সেই শুরুর ‘ডিক্সি ক্লিপারের’ তুলনায় এটি দ্বিগুণের বেশি লম্বা৷ আর ওয়াশিংটন ডিসি থেকে হংকং যাওয়ার সময় বিবেচনা করছে ক্লিপারের তুলনায় নতুন বিমানটি তিনগুণ দ্রুত গতি সম্পন্ন৷

সম্পাদনায়ঃ দুরন্ত পথিক

কোন মন্তব্য নেই: