জানার কোন অন্ত নাই, জানার ইচ্ছা বৃথা তাই, ভেবে যদি জানার ইচ্ছাকে দমন করে রাখা হয় তবে সে জীবনের কোন অর্থ নাই। কিন্তু সব জানতে হবে এমন কোন কথা নাই, তবে জানার ইচ্ছা থাকা চাই। আমাদের এই জানা জানির ইচ্ছাকে সূত্র করে, আমাদের ছোট্ট একটি প্রয়াস ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেইজটি। আমাদের জানতে চাওয়ার ইচ্ছা পুরনের লক্ষে কখনো জেনেছি মহাকাশ নিয়ে, কখনো জেনেছি সমুদ্র নিয়ে, কখনো ডুব দিয়েছি কৌতুক এর মাঝে, আবার ভয়ে কেঁপেছি ভুতের গল্প পড়ে, কখনোবা শিউরে উঠেছি কিছু মানুষের কার্যকলাপ জেনে। কখনো জেনেছি নতুন আবিষ্কারের কথা, আবার জেনেছি আদি ঐতিহ্যের কথা, এত সব কিছু করেছি শুধু জানতে চাওয়ার ইচ্ছা থেকে। সর্বশেষে ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেজ এর পক্ষ হতে আপনাকে স্বাগতম জানাই।
|| ইসলামিক কর্নার || লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
|| ইসলামিক কর্নার || লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৪

ইমাম বুখারীর সংক্ষিপ্ত জীবনী

নাম, জন্ম ও বংশ পরিচয়ঃ

তিনি হচ্ছেন সমকালীন মুহাদ্দিছদের ইমাম হাফেয আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন মুগীরা বিন বারদিযবাহ আলজু’ফী। তাঁকে আমীরুল মুমিনীন ফীল হাদীছও বলা হয়। ১৯৪ হিঃ সালের ১৩ই শাওয়াল জুমআর রাত্রিতে তিনি বুখারায় জন্ম গ্রহণ করেন।

শৈশব কাল ও জ্ঞান অর্জনঃ

শিশুকালেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। পিতার মৃত্যুর পর মাতার তত্বাবধানে তিনি প্রতিপালিত হন। দশ বছর বয়সে উপনীত হয়ে তিনি জ্ঞান চর্চার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। অল্প বয়সেই তিনি পবিত্র কুরআন মুখস্ত করেন। শৈশব কালে মক্তবে লেখাপড়া করার সময়ই আল্লাহ্ তাঁর অন্তরে হাদীছ মুখস্ত ও তা সংরক্ষণ করার প্রতি আগ্রহ ও ভালবাসা সৃষ্টি করে দেন। ১৬ বছর বয়সেই হাদীছের প্রসিদ্ধ কিতাবগুলো পাঠ সমাপ্ত করেন। 
তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ছোট থাকতেই অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। এতে তাঁর মাতা আল্লাহর কাছে খুব ক্রন্দন করলেন এবং স্বীয় সন্তানের দৃষ্টি শক্তি ফেরত দেয়ার জন্য তাঁর কাছে অবিরাম দুআ করে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ এক দিন তাঁর মা স্বপ্নে দেখলেন যে আল্লাহর নবী ইবরাহীম (আঃ) তাঁকে লক্ষ্য করে বলছেনঃ ওহে! তোমার সন্তানের দৃষ্টি শক্তি ফেরত চেয়ে আল্লাহর দরবারে তোমার ক্রন্দনের কারণে তিনি তোমার সন্তানের দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তখন তিনি প্রকৃত ঘটনা যাচাই করার জন্য স্বীয় সন্তানের কাছে গিয়ে দেখেন সত্যিই তাঁর সন্তান সম্পূর্ণ দৃষ্টি শক্তি ফেরত পেয়েছে।

বুধবার, ৯ জুলাই, ২০১৪

রোজা রাখা || সূর্য না ডোবার দেশে


সুইডেনের সবচেয়ে উত্তরের শহর কিরুনায় গ্রীষ্মকালে প্রায় দেড় মাস সূর্যাস্তই হয় না। এবারের রমজানের প্রায় অর্ধেকটাই পড়েছে এই সময়ে। আর আর্কটিক সার্কেল বা উত্তর মেরু বলয়ের ভেতরে অবস্থিত এই শহরে এখন প্রায় ৭০০ মুসলিম বসবাস করছেন। তাঁদের অনেকেই রোজা রাখেন। কিন্তু যেখানে সূর্য ডোবে না, সেখানে কখন সেহরি খাবেন আর কখনই বা ইফতার করবেন তাঁরা? আল জাজিরা ডটকম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সূর্য না ডোবার দেশে রোজা রাখার অভিজ্ঞতার কথা। উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের অনেকটা অংশজুড়েই গ্রীষ্মকালের একটা নির্দিষ্ট সময় আক্ষরিক অর্থেই সূর্য ডুবতে দেখা যায় না। তেমনি শীতকালেরও একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে সূর্য উঠতে দেখা যায় না। গ্রীষ্মকালের এ সময়টাকে ‘মেরু দিন’ এবং শীতকালের এই সময়টাকে ‘মেরু রাত্রি’ বলা হয়ে থাকে। স্ক্যান্ডেনেভিয়া অঞ্চলের দেশ সুইডেনের কিরুনা শহরটি আর্কটিক সার্কেল বা উত্তর মেরু বলয়ের আরও ১৪৫ কিলোমিটার ভেতরে। এখানে গ্রীষ্মকালেও পর্বত চূড়াগুলো সাদা বরফে ঢাকা থাকে। পুরো গ্রীষ্মকালেই রাতের আকাশ থাকে অনেকটাই আলোকিত, পুরো শীতকালে দিনের আলোর দেখা মেলা ভার।

সোমবার, ১২ মে, ২০১৪

হযরত আদম (আলাইহিস সালাম)

বিশ্ব ইতিহাসে প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী হিসাবে আল্লাহ পাক আদম (আলাইহিস সালাম) কে নিজ দু’হাত দ্বারা সরাসরি সৃষ্টি করেন (ছোয়াদ ৩৮/৭৫)। মাটির সকল উপাদানের সার নির্যাস একত্রিত করে আঠালো ও পোড়ামাটির ন্যায় শুষ্ক মাটির তৈরী সুন্দরতম অবয়বে রূহ ফুঁকে দিয়ে আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন।
অতঃপর আদমের পাঁজর থেকে তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করেন। আর এ কারণেই স্ত্রী জাতি স্বভাবগত ভাবেই পুরুষ জাতির অনুগামী ও পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট।  অতঃপর স্বামী স্ত্রীর মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে একই নিয়মে মানববংশ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। কুরআন এর বর্ণনা অনুযায়ী প্রথম দিন থেকেই মানুষ পূর্ণ চেতনা ও জ্ঞান সম্পন্ন সভ্য মানুষ হিসাবেই যাত্রারম্ভ করেছে এবং আজও সেভাবেই তা অব্যাহত রয়েছে। অতএব গুহামানব, বন্যমানব, আদিম মানব ইত্যাদি বলে অসভ্য যুগ থেকে সভ্য যুগে মানুষের উত্তরণ ঘটেছে বলে কিছু কিছু ঐতিহাসিক যেসব কথা শুনিয়ে থাকেন, তা  অলীক কল্পনা ব্যতীত কিছুই নয়। সূচনা থেকে এযাবত এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় মানুষ কখনোই মানুষ ব্যতীত অন্য কিছু ছিল না। মানুষ বানর বা উল্লুকের উদ্বর্তিত রূপ বলে ঊনবিংশ শতাব্দীতে এসে চার্লস ডারউইন (১৮০৯-১৮৮২) যে ‘বিবর্তনবাদ’ (Theory of Evolution) পেশ করেছেন, তা বর্তমানে একটি মৃত মতবাদ মাত্র এবং তা প্রায় সকল বিজ্ঞানী কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

হযরত নূহ (আলাইহিস সালাম)

পূর্বের পর্বঃ হযরত আদম (আলাইহিস সালাম)

আদম (আঃ) থেকে নূহ (আঃ) পর্যন্ত দশ শতাব্দীর ব্যবধান ছিল। যার শেষ দিকে ক্রমবর্ধমান মানবকুলে শিরক ও কুসংস্কারের আবির্ভাব ঘটে এবং তা বিস্তৃতি লাভ করে। ফলে তাদের সংশোধনের জন্য আল্লাহ নূহ (আঃ) কে নবী ও রাসূল করে পাঠান। তিনি সাড়ে নয়শত বছরের দীর্ঘ বয়স লাভ করেছিলেন এবং সারা জীবন পথ ভোলা মানুষকে পথে আনার জন্য দাওয়াতে অতিবাহিত করেন। কিন্তু তাঁর কওম তাঁকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে আল্লাহর গযবে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এরপরে আরও কয়েকটি কওম আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে পরপর ধ্বংস হয়। এভাবে পৃথিবীতে আদি যুগে ধ্বংসপ্রাপ্ত ৬টি জাতির ঘটনা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে এবং কুরআনের মাধ্যমেই জগদ্বাসী তাদের খবর জানতে পেরেছে। যাতে মুসলিম উম্মাহ ও পৃথিবীবাসী তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। উক্ত ৬টি জাতি হলঃ কওমে নূহ, ‘আদ, ছামূদ, কওমে লূত, মাদইয়ান ও কওমে ফেরাঊন। অবশ্য কুরআনে এ তালিকায় কওমে ইবরাহীমের কথাও এসেছে (তওবাহ ৯/৭০)। যদিও তারা একত্রে ধ্বংস হয়নি। তবে ইবরাহীমের ভাতিজা লূত এর কওম একত্রে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন হয়েছিল। আমরা এখানে প্রথমে নূহ  (আঃ) ও তাঁর কওম সম্পর্কে আলোচনা করব।

হযরত ইদরীস (আলাইহিস সালাম)

পূর্বের পর্বঃ হযরত নূহ (আলাইহিস সালাম)



আল্লাহ বলেন, وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِدْرِيْسَ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَّبِيًّا، وَرَفَعْنَاهُ مَكَاناً عَلِيّاً- ‘তুমি এই কিতাবে ইদরীসের কথা আলোচনা কর। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নবী’। ‘আমরা তাকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছিলাম’ (মারিয়াম ১৯/৫৬-৫৭)।
ইদরীস (আঃ) এর পরিচয়ঃ
তিনি ছিলেন একজন  বিখ্যাত নবী। তাঁর নামে বহু উপকথা তাফসীরের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। যে কারণে জনসাধারণ্যে তাঁর ব্যাপক  পরিচিতি রয়েছে। হযরত ইদরীস (আঃ) হযরত নূহ (আঃ) এর পূর্বের নবী ছিলেন, না পরের নবী ছিলেন এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে অধিকাংশ ছাহাবীর মতে তিনি নূহ (আঃ) এর পরের নবী ছিলেন।
সূরা মারিয়ামে হযরত ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক্ব, ইয়াকূব, হারূণ, মূসা, যাকারিয়া, ইয়াহ্ইয়া, ঈসা ইবনে মারিয়াম ও ইদরীস (আঃ) এর আলোচনা শেষে আল্লাহ বলেন,

 أُوْلَئِكَ الَّذِيْنَ أَنْعَمَ الله ُعَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ مِن ذُرِّيَّةِ آدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِن ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيْمَ وَإِسْرَائِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَن خَرُّوْا سُجَّداً وَبُكِيّاً-

‘এঁরাই হ’লেন সেই সকল নবী, যাদেরকে নবীগণের মধ্য হতে আল্লাহ বিশেষ ভাবে অনুগৃহীত করেছেন। এঁরা আদমের বংশধর এবং যাদেরকে আমরা নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম তাদের বংশধর এবং ইবরাহীম ও ইসরাঈল (ইয়াকূব) এর বংশধর এবং যাদেরকে আমরা (ইসলামের) সুপথ প্রদর্শন করেছি ও (ঈমানের জন্য) মনোনীত করেছি তাদের বংশধর। তাদের কাছে যখন দয়াময় আল্লাহর আয়াত সমূহ পাঠ করা হ’ত, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ত ও ক্রন্দন করত’ (মারিয়াম ১৯/৫৮)। অত্র আয়াতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ইদরীস (আঃ) হযরত নূহ (আঃ) এর পরের নবী ছিলেন। তবে নূহ ও ইদরীস হযরত আদম (আঃ) এর নিকটবর্তী নবী ছিলেন, যেমন ইবরাহীম (আঃ) হযরত নূহ (আঃ) এর নিকটবর্তী এবং ইসমাঈল, ইসহাক্ব ও ইয়াকূব হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর নিকটবর্তী নবী ছিলেন। নূহ পরবর্তী সকল মানুষ হলেন নূহের বংশধর।

হযরত হূদ (আলাইহিস সালাম)


হূদ (আঃ) এর পরিচয়ঃ হযরত হূদ (আঃ) দুর্ধর্ষ ও শক্তিশালী ‘আদ জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। আল্লাহর গযবে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিশ্বের প্রধান ছয়টি জাতির মধ্যে কওমে নূহ এর পরে কওমে ‘আদ ছিল দ্বিতীয় জাতি। হূদ (আঃ) ছিলেন এদেরই বংশধর। ‘আদ ও ছামূদ ছিল নূহ (আঃ) এর পুত্র সামের বংশধর এবং নূহের পঞ্চম অথবা অষ্টম অধঃস্তন পুরুষ। ইরামপুত্র ‘আদ এর বংশধরগণ ‘আদ ঊলা’ বা প্রথম ‘আদ এবং অপর পুত্রের সন্তান ছামূদ এর বংশধরগণ ‘আদ ছানী বা দ্বিতীয় ‘আদ বলে খ্যাত। ‘আদ ও ছামূদ উভয় গোত্রই ইরাম এর দু’টি শাখা। সেকারণ ‘ইরাম’ কথাটি ‘আদ ও ছামূদ উভয় গোত্রের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। এজন্য কুরআনে কোথাও ‘আদ ঊলা’ (নাজম ৫০) এবং কোথাও ‘ইরাম যাতিল ‘ইমাদ’ (ফজর ৭) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।

হযরত ছালেহ (আলাইহিস সালাম)

পূর্বের পর্বঃ হযরত হূদ (আলাইহিস সালাম)
‘আদ জাতির ধ্বংসের প্রায় ৫০০ বছর পরে হযরত ছালেহ (আঃ) কওমে ছামূদ এর প্রতি নবী হিসাবে প্রেরিত হন। কওমে ‘আদ ও কওমে ছামূদ একই দাদা ‘ইরাম’ এর দু’টি বংশধারার নাম। এদের বংশ পরিচয় ইতিপূর্বে হূদ (আঃ) এর আলোচনায় বিধৃত হয়েছে। কওমে ছামূদ আরবের উত্তর পশ্চিম এলাকায় বসবাস করত। তাদের প্রধান শহরের নাম ছিল ‘হিজ্র’ যা শামদেশ অর্থাৎ সিরিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে একে সাধারণভাবে ‘মাদায়েনে ছালেহ’ বলা হয়ে থাকে। ‘আদ জাতির ধ্বংসের পর ছামূদ জাতি তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়। তারাও ‘আদ জাতির মত শক্তিশালী ও বীরের জাতি ছিল। তারা প্রস্তর খোদাই ও স্থাপত্য বিদ্যায় খুবই পারদর্শী ছিল। সমতল ভূমিতে বিশালকায় অট্টালিকা নির্মাণ ছাড়াও পর্বতগাত্র খোদাই করে তারা নানা রূপ প্রকোষ্ঠ নির্মাণ করত। তাদের স্থাপত্যের নিদর্শনাবলী আজও বিদ্যমান রয়েছে। এগুলোর গায়ে ইরামী ও ছামূদী বর্ণমালার শিলালিপি খোদিত রয়েছে। অভিশপ্ত অঞ্চল হওয়ার কারণে এলাকাটি আজও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কেউ সেখানে বসবাস করে না। ৯ম হিজরীতে তাবূক যুদ্ধে যাওয়ার পথে মুসলিম বাহিনী হিজ্রে অবতরণ করলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদেরকে সেখানে প্রবেশ করতে নিষেধ করে বলেন,

শুক্রবার, ৯ মে, ২০১৪

কুরআনে বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক ইঙ্গিতসমূহ


"আমি আমার বন্দার প্রতি যাহা অবতীর্ন করেছি, তাহাতে তোমাদের বিন্দুমাত্র কোন সন্দেহ থাকলে, তোমরা ইহার অনুরুপ কোন সূরা আনয়ন কর। এবং তোমরা যদি সত্যবাদি হও তাহলে আল্লাহ ব্যাতিত তোমাদের সকল সাহায্যকারীকে নিয়ে আস। যদি আনয়ন না কর তবে সেই আগুনকে ভয় কর কাফিরদের জন্য যাহা প্রস্তুত করিয়া রাখা হয়েছে। (সূরা বাকারা:২৩, ২৪)।

এটা এমন এক বিষ্ময়কর কথা, যা মানব ইতিহাসে কোন গ্রন্থকারই নিজের বইয়ের পক্ষে দাবি করেননি এবং জ্ঞানবুদ্ধি থাকা অবস্থায় কোন মানুষই এমন সাহস করতে পারবেন না যে, সে কোরআনের মত একটা বই লিখে ফেলেছে।

কোরআনের এই চ্যালেঞ্জ চলে আসছে সেই কোরআন নাযিলের সময় থেকে। শত শথ লোক, শত শত সংগঠন এই চ্যালেঞ্জ এর মোকাবেলা করতে এগিয়ে এসেছে। চরমভাবে ব্যার্থ হয়ে সম্পূর্ণ নিরাস হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাদের সাবাইকেই।

বিগ ব্যাং, বিগ ক্রাঞ্চ এবং আল কোরআন

২০ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত মহাবিশ্ব সম্পর্কে সারা পৃথিবীতে এ ধারনা প্রচলিত ছিল যে, এই মহাবিশ্ব অসীম এবং চিরস্থায়ী এবং সব সময়ই তা এমন থাকবে। এই মতবাদটি "Static Universe Model" নামে পরিচিত যাতে বলা হয়েছিল এই মহাবিশ্বের কোন শুরু বা শেষ নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে এই মডেল ভুল প্রমাণিত হয়। বর্তমান ২১ শতকে পৃথিবীর প্রখ্যাত কিছু বিজ্ঞানী এবং গবেষকের অক্লান্ত পরিশ্রম, পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং গানিতিক গণনার ফলশ্রুতিতে আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি এই মহাবিশ্বের একটি শুরু আছে। এটি শূন্য থেকে তাৎক্ষণিক এক মহাবিস্ফোরণের (Big Bang) মাধ্যমে সৃষ্টি। আমারা আরও জানতে পারি যে এই মহাবিশ্বের একটি শুরু যেমন আছে তেমনি এর শেষও আছে। এটি স্থায়ী স্থির নয়। এটি ক্রমাগত সম্প্রসারণশীল, পরিবর্তনশীল এবং একটি নির্দিষ্ট গতিতে গতিশীল।

প্রসঙ্গ শবে বারাআতঃ একটি নিরপেক্ষ পর্যালোচনা

ভূমিকাঃ এই বিষয়টা সম্পর্কে কলম ধরার কোন ইচ্ছে ছিলনা। নফল ইবাদত নিয়ে অযথা বিতর্ক করা ঠিক নয়। যেখানে এদেশের নামের মুসলমানরা ফরয ছেড়ে দিচ্ছে অহরহ। হাজারো মুসলমান নাস্তিক হচ্ছে ধর্ম সম্পর্কে চূড়ান্ত অজ্ঞতার কারণে। হাজারো মুসলমান কুরআনের আক্ষরিক জ্ঞান থেকে বঞ্চিত। কেন একজন মুসলমান অন্য ধর্মাবলম্বী থেকে আলাদা তা’ই জানেনা কোটি মুসলমান। সেখানে নফল কোন আমল নিয়ে বিতর্ক করা মানে হল, ফরয সতর ঢেকে রাখা লুঙ্গি খুলে সুন্নত পাগড়ী মাথায় দেবার মত বোকামী আচরণ। তারপরও যখন কতিপয় নামধারী আহলে হাদিস নামের হাদিস অস্বিকারকারীদের দাম্ভিকতাপূর্ণ আচরণ চলছে দেদার। নবীজী (সাঃ) থেকে প্রমাণিত একটি নফল আমলকে অস্বিকার করছে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করে। অপরদিকে রাজারবাগী, দেওয়ানবাগী, কুতুববাগী, আর আটরশী, চন্দ্রপুরী ও মাইজভান্ডারীসহ বেদআতের ধ্বজাধারী নামধারী আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতসহ অসংখ্য মাজার কবর এবং পীরপূজারীরা পবিত্র শবে বরাতের নামে হালুয়া রুটি আর সম্মিলিত ইবাদতের মত চূড়ান্ত পর্যায়ের হীন বেদআতি কর্ম করে যাচ্ছে ধর্ম বলে। তাই বিষয়টি সাধারণ মুসলমানদের সামনে পরিস্কার করার জন্য নিবন্ধ।

সূর্যগ্রহণ চন্দ্রহণের সময়ের অজানা তথ্য


আমাদের দেশে যখন সূর্যগ্রহণ প্রকাশ পায় তখন আমাদের উৎসবমুখর জনতা অত্যন্ত আনন্দ আর কৌতুহল নিয়ে তা প্রত্যক্ষ করে।
এবার আসুন,আমরা জানতে চেষ্টা করি এ সময় আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) কি করতেন। বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থ অধ্যয়ন করলে জানা যায়,সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় রাসূল (সাঃ) এর চেহারা ভয়ে বিবর্ণ হয়ে যেত। তখন তিনি সাহাবীদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়তেন। কান্নাকাটি করতেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলমানদের ঈমানদীপ্ত ইতিহাস

দক্ষিণ আফ্রিকায় মুসলমানদের বিশেষ সম্মান আছে, আর সেখানে তাদের অবস্থানও খুব শক্তিশালী। এমন কি যখন বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করার সাহস হয় না, তখন দক্ষিণ আফ্রিকায় মুসলমানদের মজবুত অবস্থানের কারণে সেখানে সেদেশের আদালত কাদিয়ানীদের অমুসলিম বলে ঘোষণা করেছে। ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে তার একটি মুখ্য কারণ পেয়ে গেলাম।

আইন জালুতের যুদ্ধ

আইন জালুতের প্রান্তর। এটি সেই প্রান্তর যেখানে মঙ্গোলদের অহংকার চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। যেখানে থেমে গিয়েছিল মঙ্গোলদের বিজয় রথ।এ প্রান্তরেই তারা তাদের সমকক্ষ কাউকে খুঁজে পেল আর এই প্রান্তর পরিণত হল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি নিদর্শন। তাইতো জার্মান প্রফেসর মেয়ার বলেছেন," তা ছিল ইতিহাসের অন্যতম এক নিষ্পত্তিমূলক সন্ধিক্ষণ; মঙ্গোলদের অপরাজয়েতার উপাখ্যান ভেঙ্গে গেল বরাবরের জন্য, থেমে গেল উত্তর- আফ্রিকা পানে তাদের পশ্চিমমুখী সম্প্রসারণ প্রয়াস, নিশ্চিত হল ইসলামের চলমান অস্তিত্ব এবং সিরিয়া ও প্যালেস্টাইনে প্রতিষ্ঠিত হল মামলুকদের সার্বভৌমত্ব।
এটা সে সময়ের ঘটনা যখন গোটা সভ্য জগতই মঙ্গোলদের হামলায় কেঁপে উঠেছিল।যখন মঙ্গোল নেতা চেঙ্গিস খানের পৌত্র হালাকু খানের নির্মমতা ও নৃশংসতায় তৎকালীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের রাজধানী বাগদাদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়, বিলীন হয়ে যায় শত শত বছর ধরে সঞ্চিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভাণ্ডারগুলি।শুধু বাগদাদ নয় একে একে তারা দখল করে নেয় দামেস্ক ও আলেপ্পো নগরী। যেখানে তাদের পৌঁছুবার সম্ভাবনা কম ছিল সেখানেও তাদের ভীতি ছড়িয়ে পড়েছিল। তাই ঐতিহাসিক গীবন তার Decline and fall of Roman empire নামক বিখ্যাত গ্রন্থে লিখেছেন-"সুইডেনের অধিবাসীরা রাশিয়ানদের মারফত মঙ্গোল ঝাঞ্চার খবর শুনে এতটাই ভীত হয়ে পড়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত মঙ্গোলদের ভয়ে তারা তাদের চিরাচরিত অভ্যাস পরিত্যাগ করে ইংল্যান্ডের সমুদ্রকূলে মৎস্য শিকার বন্ধ করে দিয়েছিল।"

কলম্বাসের পূর্বে মুসলমান কর্তৃক আমেরিকা আবিষ্কার

১৮৩৫ সালে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত লেমিন কেবে (Lamine Kebe) বলেন "আমেরিকায় কিছু ভাল মানুষ আছে, কিন্তু আফ্রিকা এবং ইসলাম সম্পর্কে তারা সকলে খুবই অজ্ঞ (There are good men in America, but all are very ignorant of Africa and very ignorant of Islam)"। আমেরিকান জনগনের ইসলাম সম্পর্কে কোন ধারনা না থাকলেও বহু পূর্ব থেকেই আমেরিকায় মুসলমানদের অস্তিত্বের সন্ধান পাওয়া যায়। কলম্বাস পূর্ব যুগে দু একজন মুসলমানের আমেরিকায় আগমনের ইতিহাস পাওয়া গেলেও মূলত ষোড়শ শতক হতে আফ্রিকা থেকে ধৃত মুসলমান দাস দাসীদের মাধ্যমেই মুসলমানরা তাদের স্বীয় ঐতিয্য স্বল্প পরিসরে হলেও টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয় স্বমহিমায়।

কলম্বাস পূর্বযুগে আমরেরিকায় মুসলমানঃ
১১৭৮ সালে সং শাসনামলে (Song Dynasty) সারকা (Circa) নামে একজন চাইনিজ লেখক কর্তৃক লিখিত একটি দলীল সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে যা সুং দলীল (Sung Document) নামে পরিচিত। সুং দলীল থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় ১১৭৮ সালে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে একদল মুসলমান নাবিক "Mu-Lan-Pi (বর্তমান ক্যালিফোর্নিয়া)" নামক আমেরিকার একটি অঞ্চলে পৌছায়। সে মোতাবেক কলম্বাসের তিন শতক আগে মুসলমানেরাই প্রথম আমেরিকায় আবিষ্কার করে।

সব জাহাজে আগুন লাগিয়ে দাও (স্পেন বিজয়াভিযান)

এটি কাহিনী নয়। এটি একটি রোমাঞ্চকর ও ঈমান উদ্দীপক উপখ্যানের পরিণাম। এ উপখ্যানের সূচণা হয়েছিল ৫ই রজব ৯২ হিজরী মোতাবেক ৯ই জুলাই ৭১১ খৃষ্টাব্দে। যখন এক খৃষ্টান গভর্নর আফ্রিকা ও মিসরের আমীর মুসা ইবনে নুসাইরের দরবারে এ ফরিয়াদ নিয়ে এসেছিল যে, স্পেনের বাদশাহ রডারিক তার কুমারী কন্যার ইজ্জত হরণ করেছে আর সে এ অপমানের প্রতিশোধ নিতে চায় যা মুসলমানদের সহযোগিতা ছাড়া আদৌ সম্ভব নয়। মুসা ইবনে নুসাইর তখন তারেক ইবনে যিয়াদকে আহ্বান করলেন।

ঐতিহাসিক বালাকোটঃ আযাদী আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস


উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাসে বালাকোট এক চিরস্মরণীয় নাম। এর সঙ্গে জড়িত মুসলমানদের স্বাধীনতা, অস্তিত্ব ও জাগরণের ইতিবৃত্ত; পথহারা উম্মতের সঠিক পথের নির্দেশনা। ইংরেজ আমলে পরবর্তী সময়ে সংঘটিত প্রতিটি আন্দোলন, সংগ্রাম, গণঅভ্যুত্থান বালাকোটের চেতনার ফসল। বালাকোটের ঐতিহাসিক ট্রাজেডির মাধ্যমে সূচিত সংগ্রামের সিঁড়ি বেয়েই এ দেশের মুসলমানরা ফিরে পেয়েছিল তাদের স্বাধীনতা।

পহেলা এপ্রিলঃ মুসলিম উম্মাহর শোকের দিন (এপ্রিল-ফুল)


ইউরোপে মুসলমানরা প্রবেশ করেছিলেন স্পেনের দরজা দিয়ে। ঐতিহাসিক রবার্ট ব্রিফল্ট দি ম্যাকিং অব হিউম্যানিটি গ্রন্থে মুসলমানদের এ প্রবেশকে অন্ধকার কক্ষের দরজা দিয়ে সূর্যের আলোর প্রবেশ বলে অভিহিত করেছেন। কেন এই তুলনা? রবার্ট ব্রিফল্টের জবাব হলো, "যেহেতু স্পেনে মুসলমানদের আগমনের ফলে শুধু স্পেন নয়, বরং গোটা ইউরোপ মুক্তির পথ পেয়েছিল এজ অব ডার্কনেস তথা হাজার বছরের অন্ধকার থেকে।" এজ অব ডার্কনেস সম্পর্কে রবার্ট ব্রিফল্টের মন্তব্য হলো, "সেই সময় জীবন্ত অবস্থায় মানুষ অমানুষিকতার অধীন ছিল, মৃত্যুর পর অনন্ত নরকবাসের জন্য নির্ধারিত ছিল।"

কাবা ঘর এবং তার স্বচিত্র ইতিহাস


মুসলমানদের কেবলা কাবা শরিফ। এ কাবা শরিফ মহান আল্লাহতালার এক অপূর্ব সৃষ্টি। প্রতি বছর লাখ লাখ মুসলমান কাবাঘর তাওয়াফ করতে মক্কা গমন করেন। পৃথিবীতে সর্বপ্রথম আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা কাবাঘর নির্মাণ করেন। কাবাঘরকে লক্ষ্য করে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ইমরানের ৯৬ আয়াতে বলেন, ‘নিশ্চয়ই সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের ইবাদত গা রূপে নিরূপিত হয়েছে, তা ওই ঘর যা মক্কাতে অবস্থিত।’ কাবাঘরটি আল্লাহর আরশে মুয়াল্লাহর ছায়াতলে সোজাসুজি বায়তুল মামুরের আকৃতি অনুসারে স্থাপন করেন। হজরত আদম আঃ ও হজরত হাওয়া আঃ-এর পৃথিবীতে মিলন হলে তারা উভয় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইবাদতের জন্য একটি মসজিদ হজরত আদম আঃ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করেন এবং বায়তুল মামুরের আকৃতিতে পবিত্র কাবাঘর স্থাপন করেন। এখানে হজরত আদম আঃ সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহর ইবাদত করতে থাকেন (শোয়াব-উল-ঈমান, হাদিসগ্রন্থ) অনেক তফসিরবিদের মতে, মানব সৃষ্টির বহু আগে মহান আল্লাহতায়ালা কাবাঘর সৃষ্টি করেন। তফসিরবিদ মুজাহিদ বলেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বায়তুল্লাহর স্থানকে সমগ্র ভূপৃষ্ঠ থেকে দুই হাজার বছর আগে সৃষ্টি করেন।’ মুসলিম শরিফের একটি হাদিসে হজরত আবুজর গিফারি হতে বর্ণনা হয়েছে, রাসূল সাঃ তার একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন,

বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০১৪

রহস্যেঘেরা চুক্তির সিন্দুক

Ark of the Covenant বা Ark of the Testimony বা চুক্তির সিন্দুক পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় একটি বস্তু। বাইবেলে এর পরিচিতি হিসেবে বলা আছে যে এটি কাঠের বাক্স বা সিন্দুক যা আড়াই হাত লম্বা, দেড় হাত চওড়া এবং দেড় হাত উচ্চতা বিশিষ্ট (21⁄2×11⁄2×11⁄2 royal cubits or 1.31×0.79×0.79 m)। এর উপরিভাগ স্বর্ণের আবরণে আবৃত ছিল। এর সাথে চারটি স্বর্ণের রিং সংযুক্ত ছিল যার দ্বারা আর্কটি বহন করা হতো। আর্কটি প্রথমে চামড়া এবং এর উপর নিল রঙের বিশেষ কাপড় দিয়ে মোড়ানো থাকতো এবং সবসময় এটি একটি কাপড় দিয়ে আচ্ছাদিত থাকতো যাতে এটি বহনকারী পুরোহিতরাও এটি দেখতে না পারে।

রবিবার, ৪ মে, ২০১৪

সুপার বাস

নগর জীবনে যত্রিবাহী বাস যেন এক অপরিহার্য নাম। আর যদি এই বাস হয় সুপার সুপার কার (Super Car) এর মত গতিশীল তাহলেতো সে বাসে চড়ার মজাই আলাদা। এরকম এক ধারনা নিয়ে নেদারল্যান্ডের প্রাক্তন মহাকাশচারী "উব্বো ওকালস" (Wubbo Ockels) তার তৈরি সুপার বাস নিয়ে হাজির হন দুবাইয়ের International Association of Public Transport Exhibition এ। এখানে তিনি তার তৈরি করা সুপার বাসের একটা প্রোটোটাইপের প্রথম প্রদর্শন করেন। তার তৈরি এই সুপার বাস কিন্তু জ্বালানি হিসেবে তেল ব্যাবহার করে না, এটি বৈদ্যুতিক সুপার বাস, মানে ব্যাটারি চালিত। আর এই ব্যাটারি চালিত সুপার বাস ২৩ জন যাত্রী নিয়ে প্রতি ঘন্টায় ২৫০ কিঃমিঃ পর্যন্ত গতিতে ছুটতে সক্ষম। বর্তমানে এর ভবিষ্যত নির্ভর করছে এই বাসের চাহিদা এবং গ্রাহকের উপর। উব্বো ওকালস যদি গ্রাহক পান তাহলে তিনি এটি ব্যাবসায়িক ভাবে তৈরির উদ্দ্যোগ নিবেন। তবে আপাতত এটি শুধু মাত্র একটি প্রোটোটাইপেই সীমাবদ্ধো।
কি এই বাস সম্পর্কে জেনে এই সুপার বাসটির কি আরো ছবি দেখতে ইচ্ছা করছে? তাহলে চলুন দেখে নেই বিশ্বের প্রথম এবং একমাত্র এই সুপার বাসের আরো কিছু ছবি,