লুই পাস্তুরের জন্ম ১৮২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর। তিনি ১৮৯৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। বিভিন্ন রোগের কারণ ও তার প্রতিকার নিয়ে গবেষণা করার জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন।
প্রাচীনকালে অনেক সময় এমন হত, খাদ্য এবং তরল (যেমন দুধ) খাওয়ার পর মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ত। লুই পাস্তুর এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেন। তিনি গবেষণার মাধ্যমে জানতে পারেন যে খাবার থেকে অসুস্থ হওয়ার কারণ হচ্ছে তরল খাদ্যে থেকে জীবাণু। তিনি জীবাণুদের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। পদ্ধতিটিকে বলা হয় পাস্তুরাইজেশন। এ পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিবেশে তরলের রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুগুলোকে ধ্বংস করা হয়। ফলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কোনো ক্ষতি ছাড়া এই তরলগুলোকে সংরক্ষণ করা যায় আবার রোগের হাত থেকে মুক্তিও মেলে।
লুই পাস্তুর যে যুগের মানুষ ছিলেন সে যুগের মানুষের একটা ভুল ধারণা ছিল যে, অসুখ-বিসুখ এমনিতেই সৃষ্টি হয়। পাস্তুরের এ আবিষ্কার প্রমাণ করে দেয় যে, বেশিরভাগ রোগের পেছনেই অণুজীবেরা দায়ী। এভাবেই মানুষের কুসংস্কারকে তিনি বিজ্ঞানের মাধ্যমে ভুল প্রমাণ করে দেন।
রসায়নশাস্ত্রেও লুই পাস্তুরের রয়েছে কিছু যুগান্তকারী আবিষ্কার। তিনি যখন ইউনিভার্সিটি অব স্ট্রাসবার্গ এর অধ্যাপক ছিলেন তখন, টারটারিক এসিডের ধর্ম আর বিভিন্ন ক্রিস্টালের আণবিক গঠন আবিষ্কার করেছেন।
তিনি দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রতিষেধক সম্পর্কে গবেষণা করেছেন। চিকেন কলেরা যেটি মূলত মুরগী এবং অন্য পাখির শরীরের কলেরা রোগ তিনি সেই কলেরার প্রতিষেধক আবিষ্কার করেন। এর ফলে পোল্ট্রি শিল্পে অনেক উন্নতি সাধন হয়। এছাড়াও তিনি র্যাবিস রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৮৮৫ সালে সর্বপ্রথম একটি বালকের দেহে এই প্রতিষেধক প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে বালকটির জীবন রক্ষা পায়।
পাস্তুরের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে সম্মান জানিয়ে ফ্রান্স তাকে Legion of Honor--এর Grand Croix নামক সম্মাননায় ভূষিত করে।
লুই পাস্তুরের কিছু বিখ্যাত উক্তিগুলোর রয়েছে, এগুলোকে মানুষ এখনও খুব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে--
-বিজ্ঞানের কোনো দেশ ভেদাভেদ নেই, কারণ জ্ঞান হচ্ছে মানবতার সম্পদ, আর সেই আলোকবর্তিকা যা কি-না পুরো বিশ্বকে আলোকিত করবে। (“Science knows no country, because knowledge belongs to humanity, and is the torch which illuminates the world.”)
-আমি রহস্যের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি আর পর্দাটি ক্রমশ পাতলা হয়ে আসছে। (“I am on the edge of mysteries and the veil is getting thinner and thinner.”)
-আমি নিশ্চিত যে বিজ্ঞান এবং শান্তি একসময় অজ্ঞতা এবং যুদ্ধকে জয় করে নেবে। বিশ্বের সব জাতি শান্তির পথে একত্রিত হবে এবং যারা মানবতার জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে তারাই নিয়ন্ত্রণ করবে ভবিষ্যৎ। (“I am utterly convinced that Science and Peace will triumph over Ignorance and War, that nations will eventually unite not to destroy but to edify, and that the future will belong to those who have done the most for the sake of suffering humanity.”)
-যে কষ্ট পায়, সে তাঁর মতো অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করে না যে তোমার দেশ ও ধর্ম কী। সে বলে, তুমি আমার মতোই কষ্ট পাচ্ছো, আর এটুকুই আমার জন্য যথেষ্ট। (“One does not ask of one who suffers: What is your country and what is your religion? One merely says: You suffer, that is enough for me”)
লেখকঃ মিনহাজ-উস-সালেকীন ফাহমি
সম্পাদনায়ঃ দুরন্ত পথিক


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন