জানার কোন অন্ত নাই, জানার ইচ্ছা বৃথা তাই, ভেবে যদি জানার ইচ্ছাকে দমন করে রাখা হয় তবে সে জীবনের কোন অর্থ নাই। কিন্তু সব জানতে হবে এমন কোন কথা নাই, তবে জানার ইচ্ছা থাকা চাই। আমাদের এই জানা জানির ইচ্ছাকে সূত্র করে, আমাদের ছোট্ট একটি প্রয়াস ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেইজটি। আমাদের জানতে চাওয়ার ইচ্ছা পুরনের লক্ষে কখনো জেনেছি মহাকাশ নিয়ে, কখনো জেনেছি সমুদ্র নিয়ে, কখনো ডুব দিয়েছি কৌতুক এর মাঝে, আবার ভয়ে কেঁপেছি ভুতের গল্প পড়ে, কখনোবা শিউরে উঠেছি কিছু মানুষের কার্যকলাপ জেনে। কখনো জেনেছি নতুন আবিষ্কারের কথা, আবার জেনেছি আদি ঐতিহ্যের কথা, এত সব কিছু করেছি শুধু জানতে চাওয়ার ইচ্ছা থেকে। সর্বশেষে ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেজ এর পক্ষ হতে আপনাকে স্বাগতম জানাই।

শনিবার, ৭ মার্চ, ২০১৫

এমন শহরের প্রেমে পড়তেই হয়

বন্দর নগরীর এমনিতেই একটু বাড়তি আকর্ষণ থাকে৷ তার ওপর নগরটি যদি হয় হামবুর্গ, তাহলে তো কোনো কোনো পর্যটকের প্রেমে না পড়ে ফেরাই মুশকিল৷ কেন? জেনে নিন আজকের ছবিসন্ধান।


স্রোতের সঙ্গী হয়ে...
এলবে নদীতে নৌকা চলে সারাদিনমান৷ সিন্ধু ঈগলের ডাক আর স্রোতের কুলু কুলু শব্দে ঘুম ভাঙে সকালে৷ সাগর থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে হামবুর্গ বন্দর৷ বড় বড় জাহাজ যাতে অনায়াসে বন্দরে নোঙর ফেলতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে নদীকে প্রশস্ত করার পরিকল্পনা হয়েছিল৷ পরিবেশবাদীদের প্রতিবাদের মুখে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়নি৷


অনাগত দিনের গান
সংগীত পিপাসুদের জন্য সুরের বিশাল এক রাজ্য গড়ে উঠছে হামবুর্গে৷ এলবে ফিলহারমনিক হল৷ লাল ইটের তৈরি পুরোনো এক ওয়াটার হাউসের ওপর গড়ে উঠেছে সুউচ্চ এক মনোরম কাচঘর৷ ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে আসবেন বিখ্যাত শিল্পীরা৷ ২০১৭ সালে উদ্বোধন হবার কথা এই কনসার্ট হলের৷


পাতালভ্রমণ
হামবুর্গেই রয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে পুরোনো পাতাল-সুড়ঙ্গ ‘এলবে টানেল’৷ ১৯১১ সালে তৈরি করা হয়েছিল এই টানেল৷ অসংখ্য পথচারী, সাইকেল আরোহী এবং গাড়িকে প্রতিদিন লিফটে নামিয়ে দেয়া হয় পানির নীচের এই টানেলে৷ ৪২৬ মিটার দীর্ঘ এই টানেল হওয়ায় শহর থেকে এলবে নদী পার হয়ে শিপইয়ার্ড অঞ্চলে যেতে অনেক কম সময় লাগে৷ পথচারীদের এই টানেল ব্যবহারের জন্য কোনো টাকা দিতে হয়না৷


হাফেন সিটি
এলবে নদীর তীরেই গড়ে উঠছে ছোট্ট এক আধুনিক নগর৷ পুরোনো অফিস, আদালত, রাস্তা-ঘাট সব ঢেলে সাজিয়ে দেয়া হচ্ছে নতুন রূপ৷ ২০২৫ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা৷ কাজ শেষ হলে অন্তত ১০ হাজার মানুষের বসতি হবে হাফেন সিটিতে৷


সেরা যোগাযোগ ব্যবস্থা
আড়াই হাজারের মতো ব্রিজ আছে হামবুর্গে৷ ভেনিস, আমস্টারডাম বা লন্ডনের মতো শহরেও এত ব্রিজ নেই৷ কিন্তু ব্রিজ বেশি হলে কী হবে, হামবুর্গের মানুষ কখনো ব্রিজের সংখ্যা নিয়ে মাথা ঘামায়না৷ ১৮৪২ সালে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে শহরের অনেক কাঠের ব্রিজ পুড়ে গিয়েছিল৷ তাই তারপর যত ব্রিজ হয়েছে তার সবই হয় স্টিলের, নয়তো লোহার৷ সব ব্রিজই এখন দ্রুত যোগাযোগে নগরবাসীর সহায়ক৷


গুদাম ঘরের শহর
১৮৮৮ সালে স্পাইশারশ্টাট, অর্থাৎ ‘গুদামের শহর’এর উদ্বোধন করেন সম্রাট দ্বিতীয় ভিলহেল্ম৷ ব্যবসায়ীরা বিনা খরচে এখানে পণ্য মজুদ করতে পারতো বলে হামবুর্গ অবশ্য তার আগেই মুক্ত বন্দর হিসেবে সুনাম অর্জন করেছিল৷ এখনো পণ্য গুদামজাতকরণের সুবিধাসম্পন্ন বিশ্বের অন্যতম বড় শহর হামবুর্গ৷ আগামী গ্রীষ্মেই ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ-এর স্বীকৃতি পেয়ে যেতে পারে হামবুর্গ৷


রাজহাঁসের গান
হামবুর্গে শীতের বিদায় বার্তা বয়ে আনে রাজহাঁস৷ শহরে রাজহাঁসের ঝাঁক ফিরতে দেখলেই সবাই বুঝে নেয় বসন্ত এসেছে৷ এই রাজহাঁসদের দেখভালের জন্য বিশেষ অফিস খুলেছে সিটি কাউন্সিল৷ পিতার মতো রাজহাঁসদের দেখাশোনা করার জন্য একজন ‘সোয়ান ফাদার’ও রেখেছে নগর কর্তৃপক্ষ৷


‘বড় স্বাধীনতা’
শহরের ছোট্ট একটা রাস্তা৷ নাম গ্রোসে ফ্রাইহাইট, অর্থাৎ ‘বিগ ফ্রিডম’ বা বড় স্বাধীনতা৷ রাস্তার দু ধারে বার আর ক্লাবের ছড়াছড়ি৷ শিল্পী-সাহিত্যিকদের ভীষণ প্রিয় এই গ্রোসে ফ্রাইহাইট৷ ষাটের দশকে এখানেই স্টার ক্লাবে পারফর্ম করেছিল বিটলস৷ তখনো কিন্তু তাদের কেউ চিনতো না৷


আবার এসো
এক সফরে হামবুর্গের সবকিছু দেখা সম্ভব নয়৷ শহরের জাদুঘর, গির্জা, কনসার্ট হল, থিয়েটারগুলোতে একবার করে গেলেই তো কয়েকদিন কাবার হয়ে যায়৷ তাই পর্যটকদের অনেকেই সফর শেষ করে ‘আবার আসতে হবে’ ভেবে৷ আর হামবুর্গ তো সবসময় মুখিয়েই থাকে ‘মইন মইন’ অর্থাৎ স্বাগতম স্বাগতম বলে সবাইকে অভ্যর্থনা জানাতে!

সম্পাদনায়ঃ দুরন্ত পথিক

কোন মন্তব্য নেই: