পৃথিবীতে বোধহয় অসম্ভব বলে কিছুই নেই। একটা সময় আমরা বইতে যে হ্যালির ধূমকেতুর গল্প পড়ে আর ছবি দেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে ঐ ঝাঁটার মতো ধূমকেতু খুঁজে বেড়াতাম, সেই ধূমকেতু জয়ের নেশায় এখন মহাকাশযান পাঠাচ্ছে বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে ৫০ কোটি কিলোমিটার দূরের একটি ধূমকেতুকে খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণের চেষ্টায় বড় সাফল্যও পেয়ে গেছে একটি ইউরোপীয় মহাকাশ যান। মহাকাশযানটির নাম 'রোসেটা'।
রোসেটা নামের এই যানটির লক্ষ্য ছিল, আগামী এক বছর ধরে ধূমকেতুটিকে প্রদক্ষিণ করা এবং সেখানে একটি ল্যান্ডার বা অবতরণযান পাঠিয়ে তার উপাদানগুলো পরীক্ষা করা। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, পৃথিবীতে প্রাণের উৎস যে কার্বন ও পানি, তা এই ধূমকেতু থেকেই এসেছিল কিনা -- সেসব এই পরীক্ষাগুলো থেকে জানা যেতে পারে।
কিন্তু চুরিমফ-গেরাসিমিয়েঙ্কো (Churyumov–Gerasimenko) নামের একটি ধূমকেতুর পাশে মহাকাশযানটিকে স্থাপন করার পরই শুরু হল রহস্যময় ঘটনা। রোসেটা প্লাজমা কনসোর্টিয়াম এর মাধ্যমে ধূমকেতুটির আশেপাশের প্লাজমা স্তরের বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করতে গিয়েই বিচিত্র ঘটনার সাক্ষী হলেন বিজ্ঞানীরা।
বলা হয়, প্লাজমা একটি চার্জযুক্ত গ্যাস এবং প্লাজমা কনসোর্টিয়ামের কাজ ছিল, ধূমকেতুটির বাষ্প আর ধূলিকণা কীভাবে সৌরজগতের বাতাস আর ধূমকেতুর নিউক্লিয়াসের উপাদানের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, তা পর্যবেক্ষণ করা। সেই পর্যবেক্ষণ করার সময়ই দেখা যায়, ধূমকেতুটির দুর্বল চৌম্বকক্ষেত্র খুব অল্প কম্পাঙ্কে স্পন্দিত হচ্ছে।
আর এই কারণেই যন্ত্রে ধরা পড়ল এক অদ্ভুত সুর। ধূমকেতু থেকে ভেসে আসা সেই সুর বা আওয়াজের কম্পাঙ্কের তারতম্য ছিল ৪০-৫০ মিলি হার্জ (mlHz), যা বেশ অস্বাভাবিক। কেননা, মানুষ শুনতে পায় এমন কম্পাঙ্কের মাত্রার চেয়ে তা ১০ হাজার হার্জ (Hz) কম।
এই ধরণের অদ্ভুত আওয়াজ শুনে বিজ্ঞানীরা রীতিমতো হতবাক। তারা এখনও খুঁজে বের করতে পারেননি ঠিক কী কারণে এই আওয়াজটা আসছে। এই বিচিত্র সুরের রহস্য উদ্ঘাটন করতে বিজ্ঞানীরা এর কম্পাঙ্ক ১০ হাজার হার্জ বাড়িয়ে মানুষের শোনার উপযোগী করে নিয়েছেন। আপাতত তাদের ধারণা, ধূমকেতুর জেট থেকে চার্জ নিরপেক্ষ কণাগুলার আয়নিত হওয়ার কারণেই এমন অদ্ভুত আওয়াজ তৈরি হচ্ছে।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন