জানার কোন অন্ত নাই, জানার ইচ্ছা বৃথা তাই, ভেবে যদি জানার ইচ্ছাকে দমন করে রাখা হয় তবে সে জীবনের কোন অর্থ নাই। কিন্তু সব জানতে হবে এমন কোন কথা নাই, তবে জানার ইচ্ছা থাকা চাই। আমাদের এই জানা জানির ইচ্ছাকে সূত্র করে, আমাদের ছোট্ট একটি প্রয়াস ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেইজটি। আমাদের জানতে চাওয়ার ইচ্ছা পুরনের লক্ষে কখনো জেনেছি মহাকাশ নিয়ে, কখনো জেনেছি সমুদ্র নিয়ে, কখনো ডুব দিয়েছি কৌতুক এর মাঝে, আবার ভয়ে কেঁপেছি ভুতের গল্প পড়ে, কখনোবা শিউরে উঠেছি কিছু মানুষের কার্যকলাপ জেনে। কখনো জেনেছি নতুন আবিষ্কারের কথা, আবার জেনেছি আদি ঐতিহ্যের কথা, এত সব কিছু করেছি শুধু জানতে চাওয়ার ইচ্ছা থেকে। সর্বশেষে ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেজ এর পক্ষ হতে আপনাকে স্বাগতম জানাই।

রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৪

এ যুগের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর || রাস্তার আলোয় পড়া

প্রতিদিনের মতো সেদিনও ফেসবুক ঘাঁটছিলাম৷ হঠাৎ একটি ছবিতে চোখ আটকে গেলো৷ রাস্তার আলোতে ফুটপাতে বসে লেখাপড়া করছে একটি শিশু৷ ছবির সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে বিস্তারিত তথ্য যার শিরোনাম ‘ল্যাম্প পোস্টের নীচে সূর্যোদয়’৷


পড়ার পর মনে হলো শিশুটির সঙ্গে কথা বলা দরকার৷ তাই যোগাযোগ করলাম পোস্ট দাতাদের সঙ্গে৷ তাদের মাধ্যমেই রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০ টায় কথা হয় রাজু নামের ঐ শিশু ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে৷
তাদের সঙ্গে কথা বলার আগে ফেসবুকেই আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেল৷ যেমন রাজু তার তিন ভাইবোন ও মা সহ থাকে ঢাকার উত্তরার সোনারগাঁ জনপথ রোডের পাশে একটি ঝুপড়ি ঘরে৷ গুগল ম্যাপের সহায়তা নিয়ে তাদের ঘরের আসল জায়গাটা চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন পোস্ট দাতারা৷ আরও জানা গেল, রাজুরা আসলে ছিল সাত ভাইবোন৷ এর মধ্যে একজন মারা গেছে৷ বাকি বড় দুই ভাই বিয়ে করে আলাদা থাকছে৷ তারা পরিবারের খোঁজখবর নেন না৷ রাজুর বাবা বছর চারেক আগে মারা গেছেন সম্ভবত ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে৷


সাক্ষাৎকারে রাজু জানালো সে পড়ে স্থানীয় একটি সরকারি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে৷ সকাল আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত ক্লাস করার পর সে চলে যায় ওয়ার্কশপে কাজ করতে৷ সেখানে থাকে রাত আটটা পর্যন্ত৷ মাঝে দুপুর দুইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত মসজিদে যায় আরবি শিখতে৷ এরপর রাত আটটায় ঘরে ফিরে পড়াশোনা করে৷ কিন্তু ঘরে শুধু একটা আলোর ব্যবস্থা থাকায় মা সেটাতে কাজ করেন৷ তাই পড়ালেখা করতে তাকে চলে যেতে হয় ফুটপাতে, যেখানে রাস্তার লাইটের আলো আছে৷ রাজুর সঙ্গে পড়ে তার বোন বৃষ্টি ও ছোট ভাই ভান্ডারি৷ বৃষ্টি একই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে৷কথা প্রসঙ্গে রাজু জানালো, রাস্তার পাশে পড়ার সময় ধুলাবালির কারণে তার সমস্যা হয়৷ যে ওয়ার্কশপে সে কাজ করে সেখান থেকে কোনো টাকা পয়সা দেয় না৷

শুধু ঈদে জামাকাপড়, জুতা দেয়৷ এ প্রসঙ্গে রাজুর মা জানালেন, ‘‘আমি অসুস্থ৷ না জানি কখন কি হয়৷ তখন ছেলেমেয়েদের কি হবে৷ আমার তো জমিজমা, ঘরবাড়ি নাই৷ তাই কাজ শিখুক৷ যদি কাজে লাগে?'' এরপর এই অশিক্ষিত মা বললেন, ‘‘কাজ না করলে সেই সময়টা দুষ্টু ছেলেপিলের সঙ্গে মিশে খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে৷ ''রাজুর মা জানালেন তাঁর কানের নীচে টিউমারের মতো হয়েছে৷ তিনি হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাচ্ছেন৷ কিন্তু অর্থের অভাবে নিয়মিত খেতে পারছেন না৷ ইটভাঙার কাজ করে পাঁচজনের সংসার চালান রাজুর মা৷
রাজু তার মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী পড়ালেখা করে ভবিষ্যতে জজ হতে চান৷ আর বৃষ্টি ও ভান্ডারি ডাক্তার হয়ে মায়ের চিকিৎসা করতে চায়৷
কিন্তু তাদের এই স্বপ্নগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে? আশার কথা, যাঁরা ফেসবুকে ছবি দিয়ে বিষয়টি অনেকের নজরে এনেছেন তাঁরাই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছেন৷ এ নিয়ে তাঁরা ফেসবুকে একটি গ্রুপ খুলেছেন৷ সেখানে অনেকে আশার কথাও শুনিয়েছেন৷

সাক্ষাৎকার: জাহিদুল হক
সম্পাদনা: দুরন্ত পথিক

কোন মন্তব্য নেই: