হার্লি জর্ডিয়ান কোনো সাধারণ বালক নয়। যখন তার
বন্ধুরা কম্পিউটারে ভিডিও গেইমস খেলছে তখন সে ব্যস্ত মার্বেল সাপ্লাইয়ারদের
অর্ডার দিতে আর ক্রেতাদের সামলাতে।
১১ বছরের এই ছোট্ট ব্যবসায়ী গত পাঁচ বছর ধরে ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে
বসে সামলাচ্ছে তার মার্বেলের রাজ্য। তার প্রতিষ্ঠান এখন প্রতিবছর হাজার
পাউন্ড আয় করছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তার ক্রেতা আছে। সবাই ইন্টারনেটে তার
কাছে মার্বেলের অর্ডার দেয়।
ছোট্ট হার্লি সংবাদমাধ্যমকে বলে, “আমার
স্বপ্ন হল, একদিন একটি চেইন শপ দেব-- অনেকটা ওয়ালমার্টের মতো। এটা হবে
বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেলনার দোকান, যেখানে অনেক ধরনের মার্বেল পাওয়া যাবে।”
তোমার মার্বেলের দোকানের কথা শুনে তোমার বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল--
এমন প্রশ্নের জবাবে হার্লি বলে, “আমি ব্যবসা করছি শুনে আমার বন্ধুরা খুব
খুশি হয়েছে। প্রথম দিকে বন্ধুদের কেউ কেউ বিশ্বাস করত না যে আমি মার্বেল
বিক্রি করছি। তবে তারা এখন বিশ্বাস করে। ওরা এখন আমার খুব ভালো ক্রেতা।”
মার্বেল
দিয়ে তোমার খেলতে ইচ্ছে করে না-- এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলে, “যখন
ব্যস্ততা থাকে না, তখন আমি মার্বেল দিয়ে খেলি। তাদের দিকে তাকিয়ে থাকি। হাত
বুলিয়ে আদর করি। সত্যি বলতে আমি আমার মার্বেলদের ভালোবাসি।”
সে আরও
বলে, “আমি আমার প্রতিষ্ঠানের বস ঠিকই, তবে আমি এখানে আমার মা এবং বড়
দুভাইকেও কাজে লাগিয়েছি। তার কারণ যদি কখনও ভুল করি তখন যেন সবাই আমাকে দোষ
না দেয়।”
“আমার ব্যবসার ধরনটা খুব সাধারণ। আমি আমার সাপ্লাইয়ারদের কাছ থেকে সেরা
মারবেলটা সংগ্রহ করি। কোনো ধরনের খুঁত আমি মেনে নেই না। সে রকম হলে আমি
অর্ডার বাতিল করে মার্বেল ফেরত পাঠিয়ে দেই। এরপর সেরা মার্বেলটা আমি আমার
শো রুমে সাজিয়ে রাখি। ক্রেতাদের চাহিদা মতো মার্বেল সরবরাহ করতে একটুও
কার্পণ্য করি না। আমার ক্রেতাদের বড় অংশ অনলাইনে মার্বেল কেনে। বিশ্বের
বিভিন্ন দেশ থেকে আমার ক্রেতারা মার্বেলের অর্ডার করে। যেমন-- আমেরিকা,
চীন, ফ্রান্স, এমনকি ভারত থেকেও। কুরিয়ারের মাধ্যমে মার্বেল সররাহ করতে হয়
তাদের কাছে। সময়কে আমি যথেষ্ঠ মূল্য দেই। যাকে যে সময়ে মার্বেল সরবরাহ করার
কথা তাকে সেই সময়ের আগেই মার্বেল পৌঁছাতে চেষ্টা করি।”
কীভাবে
এসব শুরু হল সে কথা বলতে গিয়ে হার্লির মা টিনা বলেন, “হার্লি অনেক ছোট সময়
থেকেই মার্বেলের ভক্ত। সম্ভবত যখন ওর বয়স ছয় তখন থেকেই। ঘুমুতে যাবার আগে
সে তার মার্বেলগুলো বালিসের নিচে রেখে দিত। সকাল হলে সবার আগে সে খোঁজ নিত
তার মার্বেলের। এক সময় পরিবারের সবাই মিলে ওকে মার্বেল কিং বা মার্বেলের
রাজা নামে ডাকতে শুরু করলাম। পরবর্তীতে সে যখন অন লাইনে মার্বেল শপ খুলল,
তখন তার ডোমেইন নেম Marble King রাখার পেছনে কারণ ছিল এটাই। সে যখন মার্বেল
বিক্রির কথা জানাল, তথন আমরা তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানালাম। তাকে দারুণ
একটি দোকান খোলার ব্যাপারে সাহায্য করলাম। এর মধ্যে দিয়ে তার মুখে আমরা
হাসি ফোটাতে পেরেছিলাম এবং সেটাই মূখ্য ছিল। এখন সে একটি মার্বেল শপের
মালিক হয়েছে। তার মধ্যে অল্প বয়সেই দায়িত্বশীলতা বেড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে
আমরা দারুণ খুশি।”
“আমি তার ওয়েবসাইটটি খুলতেও সাহায্য করেছিলাম। তবে এখন সে নিজেই নিজের
অর্ডারগুলোর খোঁজ নিতে পারে। অর্ডার অনুসারে মার্বেল প্যাকেট করা এবং সেটা
পোস্ট করার কাজও সে দারুণ দক্ষতার সঙ্গে করে থাকে। আমি শুধু তার হিসাবটা
দেখে দেই। সেই হিসেবে আপনারা আমাকে হার্লির একাউটেন্ট বলতে পারেন।”
ইচ্ছে হলে তুমিও হার্লির কাছ থেকে মার্বেল কিনতে পার। সে জন্য তোমাকে লগইন করতে হবে marbleking.co.uk এই ওয়েবসাইটে।






