জানার কোন অন্ত নাই, জানার ইচ্ছা বৃথা তাই, ভেবে যদি জানার ইচ্ছাকে দমন করে রাখা হয় তবে সে জীবনের কোন অর্থ নাই। কিন্তু সব জানতে হবে এমন কোন কথা নাই, তবে জানার ইচ্ছা থাকা চাই। আমাদের এই জানা জানির ইচ্ছাকে সূত্র করে, আমাদের ছোট্ট একটি প্রয়াস ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেইজটি। আমাদের জানতে চাওয়ার ইচ্ছা পুরনের লক্ষে কখনো জেনেছি মহাকাশ নিয়ে, কখনো জেনেছি সমুদ্র নিয়ে, কখনো ডুব দিয়েছি কৌতুক এর মাঝে, আবার ভয়ে কেঁপেছি ভুতের গল্প পড়ে, কখনোবা শিউরে উঠেছি কিছু মানুষের কার্যকলাপ জেনে। কখনো জেনেছি নতুন আবিষ্কারের কথা, আবার জেনেছি আদি ঐতিহ্যের কথা, এত সব কিছু করেছি শুধু জানতে চাওয়ার ইচ্ছা থেকে। সর্বশেষে ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেজ এর পক্ষ হতে আপনাকে স্বাগতম জানাই।

মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০১৪

স্তন্যপায়ী মাছ !!


এলপাউট মাছের মায়েরা একবারে ৩০ থেকে ৪০০ টি পর্যন্ত পোনা ছাড়ে। আর জন্মের সময় একেকটি ছানা ৩ থেকে ৫ ইঞ্চি পর্যন্ত বড় হয়। মায়ের পেটেই ডিম বড় হয়। তারপর পেটের মধ্যেই জন্ম নেয় খুদে খুদে ছানারা। কিন্তু মায়ের পেট থেকে বের হয়না। পেটের ভিতরে থেকেই দুধ খায় আর বড় হয়। যখন ছানাগুলোর মনে হয় তারা যথেষ্টই বড়ো হয়ে গেছে তখন তারা বেরিয়ে আসে। এভাবে মায়ের পেটে ছয়মাস পর্যন্ত কাটিয়ে দেয় এলপাউটের পোনাগুলো।

 
বড় হলে ছানারা পেট থেকে বের হয়ে আসে ঠিকই তবে সবসময় আবার তারা বের হয় না। তারা মায়ের পেট থেকে বের হবার জন্য শীতকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে। পানি যখন অনেক শীতল হয়ে বরফের কাছাকাছি আসে তখনই কেবল পোনাগুলো বের হয়ে আসে। বড় এলপাউট মাছ সর্বোচ্চ ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। আর ওজন হয় ৫ কেজিরও বেশি। এই মাছ বাস করে সমুদ্রের কিনারায় পাথরের তলায়। পাথরের গায়ে লেগে থাকা বিভিন্ন শৈবাল এবং অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ এই মাছগুলোর প্রধান খাবার।
 

এলপাউট মাছেরা কিন্তু পানি ছাড়াও বেঁচে থাকতে পারে। পাথরের নীচে কোনো স্যাঁতসেঁতে স্থান বা সমুদ্রের কোনো আগাছার নীচেও চুপটি করে বসে থাকতে পারে। মাঝে মাঝে পানিতে থাকতে ভালো না লাগলেই হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তারা বের হয়ে আসে পানি ছেড়ে। তাই বলে কি তাদের কোনো সমস্যা হয়? হয় না। কেন বল তো? কারণ তারাও তো স্থলচর প্রাণীদের মতোই মায়ের দুধ খেয়ে বড় হয়। দেখতে ইচ্ছে করছে এই মাছগুলোকে? তাহলে তো তোমাকে যেতে হবে সেই ইউরোপে। আজকে নাহয় এর গল্প শুনে আর সঙ্গের ছবি দেখেই আশ মেটাও। পরে কখনো সময় সুযোগ হলে সামনাসামনি দেখে এসো এলপাউট মাছের ছানাদের।

লেখকঃ মোঃ মিন্টু হোসেন
সম্পাদনায়ঃ Duronto Pothik