জানার কোন অন্ত নাই, জানার ইচ্ছা বৃথা তাই, ভেবে যদি জানার ইচ্ছাকে দমন করে রাখা হয় তবে সে জীবনের কোন অর্থ নাই। কিন্তু সব জানতে হবে এমন কোন কথা নাই, তবে জানার ইচ্ছা থাকা চাই। আমাদের এই জানা জানির ইচ্ছাকে সূত্র করে, আমাদের ছোট্ট একটি প্রয়াস ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেইজটি। আমাদের জানতে চাওয়ার ইচ্ছা পুরনের লক্ষে কখনো জেনেছি মহাকাশ নিয়ে, কখনো জেনেছি সমুদ্র নিয়ে, কখনো ডুব দিয়েছি কৌতুক এর মাঝে, আবার ভয়ে কেঁপেছি ভুতের গল্প পড়ে, কখনোবা শিউরে উঠেছি কিছু মানুষের কার্যকলাপ জেনে। কখনো জেনেছি নতুন আবিষ্কারের কথা, আবার জেনেছি আদি ঐতিহ্যের কথা, এত সব কিছু করেছি শুধু জানতে চাওয়ার ইচ্ছা থেকে। সর্বশেষে ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেজ এর পক্ষ হতে আপনাকে স্বাগতম জানাই।

শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০১৪

শুধু নেয় না ফিরিয়েও দেয় || ব্ল্যাকহোল


ব্ল্যাকহোল সম্পর্কে অনেকেরই বদ্ধমূল ধারণা এমন, ব্ল্যাকহোল এর কাছাকাছি যা কিছুই পায়, বাছ-বিচার না করে তাই গোগ্রাসে গিলে ফেলে। অর্থাৎ প্রচণ্ড মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সাহায্যে তা টেনে নিজের ভেতরে নিয়ে নেয়। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় পাওয়া গেছে ভিন্ন তথ্য।





আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথে স্যাগিটারিয়াস নামের যে ব্ল্যাকহোলটি আছে, সেটি কিন্তু মোটেই এমন নয়! অন্যান্য ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত ব্ল্যাকহোলগুলোর মতোই সাধারণ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এই ব্ল্যাকহোলটি যতটুকু না টেনে নেয়, তার চেয়ে অনেক বেশি বাইরে ছুড়ে ফেলে দেয়। ব্যাপারটা অনেকটা ছোট্ট শিশুর মতো, যে কিনা যতটুকু খাবার গেলে, তার চেয়ে বেশি ফেলে দেয়!

মহাবিশ্বে শুধু ছায়াপথের কেন্দ্রে থাকা ব্ল্যাকহোলগুলোরই ঔজ্জ্বলতা কেন এত কম তা মহাকাশবিজ্ঞানে এখনও এক বিশাল রহস্য। শক্তি নিয়ে আইনস্টাইনের আলোর গতিবেগের বর্গ ও শক্তির ভর সমান হওয়ার যে সূত্র, অর্থাৎ E=MC2 অনুসারেই কোনো বস্তুকে সর্বশেষ পর্যায় পর্যন্ত ভেঙে ফেললে তা শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। কোয়াসার, অর্থাৎ মহাকাশের অন্যান্য বস্তুর তুলনায় ছোট কিন্তু অস্বাভাবিক রকমের উজ্জ্বল কিছু বস্তু দেখা যায়, সেগুলোর ভেতরে অবস্থানরত ব্ল্যাকহোলগুলো নিজের আশপাশে দৃশ্যমান এক ধরনের উজ্জ্বল আলো তৈরির পাশাপাশি আশপাশের বস্তুগুলোর প্রায় সবই ভেতরে টেনে নিয়ে নেয়। কিন্তু স্যাগিটারিয়াস-এ বা বর্তমান মহাবিশ্বের ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত অন্যান্য ব্ল্যাকহোলগুলো থেকে বিকিরণ হতে খুব একটা দেখা যায় না।



এমন? বিষয়টা কি এমন যে স্যাগিটারিয়াসে যে পরিমাণ উত্তপ্ত গ্যাস শোষণ করছে সেই পরিমাণ ঠাণ্ডা গ্যাস, যেটা কোয়াসার্স শোষণ করে রাখে, তা বের করতে পারছে না? এই বিষয়টি জানার জন্য এর মধ্যেই বিজ্ঞানীরা শক্তির অন্যান্য চিহ্ন যাচাই করতে রঞ্জন রশ্মির (এক্স-রে) সাহায্যে ছবি তুলতে নাসার চাঁদের এক্স-রে অবজারভেটরি ব্যবহার করেছেন।



অ্যামহাস্টের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটেস জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী কিউ. ড্যানিয়েল ওয়্যাং-এর নেতৃত্বে এই গবেষণার প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান জার্নালে। সূর্যের ভরের চেয়ে স্যাগিটারিয়াস এর ভর ৪ মিলিয়ন গুণ বেশি। পৃথিবী থেকে ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে এর অবস্থান, যেখানে এক আলোকবর্ষ মানে হল ৫.৯ ট্রিলিয়ন মাইলের সমান দূরত্ব।




স্যাগিটারিয়াস এর দূরত্ব যতই বেশি হোক না কেন, এর আশপাশে কী ঘটছে বর্তমান বিশ্বের উন্নত বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও তা না বোঝার মতো এতটা দূরেও এটি নয়। ব্ল্যাকহোলটির চতুর্দিকে যে গ্যাস, তার তাপমাত্রা লাখ লাখ ডিগ্রি পর্যন্তও বৃদ্ধি পায়। এই নতুন গবেষণার উপর ভিত্তি করে গবেষকেরা বলছেন যে, ব্ল্যাকহোলটি তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ব্যবহার করে যা কিছুই টেনে নেয় তার মাত্র ১% বস্তুর ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা থাকে না, এই তথ্যটিকে বলা হচ্ছে ‘ইভেন্ট হরাইজন’।
আর গবেষক ওয়্যাংও বলছেন এমনটাই, ‘মাত্র ১% গ্যাসের কোনো সম্ভাবনা নেই ফিরে আসার, কিন্তু বাকি ৯৯% গ্যাস ব্ল্যাকহোলের ভেতরে গিয়েও আবার ফেরত আসতে পারে।’
কাজেই ব্ল্যাকহোল খালি সবকিছু নিয়েই যায়, কিছু ফেরত দেয় না এই ধারণা অবশেষে বোধ হয় ভুল প্রমাণিত হতে যাচ্ছে।

লেখকঃ রবিউল কমল
সম্পাদনায়ঃ Duronto Pothik