জানার কোন অন্ত নাই, জানার ইচ্ছা বৃথা তাই, ভেবে যদি জানার ইচ্ছাকে দমন করে রাখা হয় তবে সে জীবনের কোন অর্থ নাই। কিন্তু সব জানতে হবে এমন কোন কথা নাই, তবে জানার ইচ্ছা থাকা চাই। আমাদের এই জানা জানির ইচ্ছাকে সূত্র করে, আমাদের ছোট্ট একটি প্রয়াস ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেইজটি। আমাদের জানতে চাওয়ার ইচ্ছা পুরনের লক্ষে কখনো জেনেছি মহাকাশ নিয়ে, কখনো জেনেছি সমুদ্র নিয়ে, কখনো ডুব দিয়েছি কৌতুক এর মাঝে, আবার ভয়ে কেঁপেছি ভুতের গল্প পড়ে, কখনোবা শিউরে উঠেছি কিছু মানুষের কার্যকলাপ জেনে। কখনো জেনেছি নতুন আবিষ্কারের কথা, আবার জেনেছি আদি ঐতিহ্যের কথা, এত সব কিছু করেছি শুধু জানতে চাওয়ার ইচ্ছা থেকে। সর্বশেষে ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেজ এর পক্ষ হতে আপনাকে স্বাগতম জানাই।

রবিবার, ২০ জুলাই, ২০১৪

রাতারগুল || বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন

‘সোয়াম্প ফরেস্ট’ বা জলাবন মানে হচ্ছে এমন বন যেখানে সবসময় বা বছরের কোনো একটা সময় পানি থাকে৷ বাংলাদেশের এমনই একমাত্র বন সিলেটের রাতারগুল


শীতে পানি থাকে না

বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট বা জলাবন রাতারগুল৷ সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রায় ৩৩৮ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত এই বনকে ১৯৫২ সালে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করে বন বিভাগ৷ শীতে এ বনের পানি শুকিয়ে গেলেও বছরের বাকী সময়গুলো জলমগ্ন থাকে পুরো বনটি৷



অভয়ারণ্য

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট মূলত একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য৷ এ বনের বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ সরীসৃপ৷ এখানে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ দেখা যায়৷


ব্যাঙ

রাতারগুলে রয়েছে নানান প্রজাতির ব্যাঙ৷


গিরগিটি

এই প্রাণীর দেখা মেলে রাতারগুলে৷


মাছ

রাতারগুল মাছেরও অভয়ারণ্য৷ ছবিতে জেলেদের মাছ ধরতে দেখা যাচ্ছে৷ এ বনকে কেন্দ্র করে এর আশপাশে বেশ কিছু জেলে পরিবার বসবাস শুরু করেছে৷


বানরের দেখা

রাতারগুল জলাবনে বসবাস করে বেশ কিছু রেসাস বানর৷ জলে ডোবা এ বনের ডালে ডালে বিচরণ তাদের৷ তবে এক শ্রেণির পর্যটকদের উৎপাতের কারণে এ প্রাণীটি দিন দিন কমে যাচ্ছে৷


জলসহিষ্ণু গাছ

রাতারগুল বনে জলসহিষ্ণু চার প্রজাতির গাছ বেশি দেখা যায়৷ এগুলো হলো হিজল, বরুণ, করচ আর মুর্তা৷ তিন ধরনের গাছ জলের উপরে থাকলেও বর্ষা মৌসুমে মুর্তা গাছ জলে ডুবে থাকে৷ এই মুর্তা দিয়েই তৈরি হয় সিলেটের বিখ্যাত শীতল পাটি৷


কোষা নৌকা

প্রতিদিন কয়েকশ পর্যটক রাতারগুল জলাবনে যান৷ এ বনে ঘুরে বেড়ানোর জন্য একমাত্র বাহন স্থানীয় কোষা নৌকা৷ একেকটি নৌকায় দুই থেকে দশজন পর্যন্ত বেড়াতে দেখা যায়৷ দেড় শতাধিক মানুষ এ বনে পর্যটকবাহী নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন৷


ছুটির দিনে ভিড়

সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটির দিনগুলোতে রাতারগুল জলাবনে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়৷


সুব্যবস্থা নেই

রাতারগুল জলাবনের গড় গভীরতা প্রায় ১৫ ফুট৷ তবে এ বনের কোথাও কোথাও গভীরতা ৩৫ ফুটেরও বেশি৷ এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের ভ্রমণকালীন সময়ে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করতে দেখা যায় না৷ পর্যটকদের জন্য সরকারি কোনো সুব্যবস্থাও নেই এখানে৷ তাই যে-কোনো সময় বড় কোনো দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারেন বেড়াতে আসা পর্যটকরা৷


বনের ক্ষতি

রাতারগুল জলাবনে পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বোতল৷ অপচনশীল এসব বর্জ্যের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে, যা বনের পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর৷


পর্যবেক্ষণ টাওয়ার

রাতারগুল বনের মাঝে সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হচ্ছে কংক্রিটের তৈরি বিশাল পর্যবেক্ষণ টাওয়ার৷ এখানে রিসোর্ট হিসেবে বড় বড় ইটের তৈরি স্থাপনা তৈরিরও উদ্যোগ নিয়েছিল বন বিভাগ৷ তবে পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের মুখে রিসোর্টগুলো তৈরি না করলেও পর্যবেক্ষণ টাওয়ারটি তৈরি করা হয়েছে৷