জানার কোন অন্ত নাই, জানার ইচ্ছা বৃথা তাই, ভেবে যদি জানার ইচ্ছাকে দমন করে রাখা হয় তবে সে জীবনের কোন অর্থ নাই। কিন্তু সব জানতে হবে এমন কোন কথা নাই, তবে জানার ইচ্ছা থাকা চাই। আমাদের এই জানা জানির ইচ্ছাকে সূত্র করে, আমাদের ছোট্ট একটি প্রয়াস ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেইজটি। আমাদের জানতে চাওয়ার ইচ্ছা পুরনের লক্ষে কখনো জেনেছি মহাকাশ নিয়ে, কখনো জেনেছি সমুদ্র নিয়ে, কখনো ডুব দিয়েছি কৌতুক এর মাঝে, আবার ভয়ে কেঁপেছি ভুতের গল্প পড়ে, কখনোবা শিউরে উঠেছি কিছু মানুষের কার্যকলাপ জেনে। কখনো জেনেছি নতুন আবিষ্কারের কথা, আবার জেনেছি আদি ঐতিহ্যের কথা, এত সব কিছু করেছি শুধু জানতে চাওয়ার ইচ্ছা থেকে। সর্বশেষে ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেজ এর পক্ষ হতে আপনাকে স্বাগতম জানাই।

রবিবার, ২৯ জুন, ২০১৪

স্পিড ব্রেকার থেকে তড়িৎ উৎপাদন


নাম শুনেই উদ্ভট লাগছে, তাই না??!!! স্পিড ব্রেকার বা গতিরোধক দিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন করা যায়, কিন্তু তাই বলে একেবারে বিদ্যুত উৎপাদন!!! হ্যাঁ এমনটি কিন্তু আসলেই সম্ভব। আমাদের দেশের রাস্তা-ঘাটে যেসব স্পিড ব্রেকার দেখা যায় তাদের উচ্চতা কমবেশি ৮-১০ সেমি। এখন একটা প্রাইভেট গাড়ির ওজন কমবেশি প্রায় ১৮০০কেজি।
যখন বিশাল ওজনের গাড়িটি যখন স্পিড ব্রেকারের উপর দিয়ে যায় তখন কিন্তু সেটি একটা বেশ ভাল রকমের বিভব শক্তির উৎস হয়ে যায়। হিসাবটা খুবই সোজা, E=mgh সূত্র প্রয়োগ করলেই পাওয়া যায়। এটা তো একটা গাড়ির কথা। একবার ভাবুন তো সারাদিন ঢাকার একটা ব্যস্ত রাস্তাতে প্রতি ঘণ্টায় কি পরিমাণ গাড়ি চলাচল করে? এরকম একটি রাস্তায় একটি মাত্র স্পিড ব্রেকারে কি পরিমাণ শক্তি নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত!! এই নষ্ট শক্তিটাই কাজে লাগাতে চেয়েছেন বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের দুই ছাত্র Md Monzurul Islam Tushar এবং Saifujjaman Saif . গিয়ার-পিনিয়ন
পদ্ধতিতে এই শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি তৈরি করার চেষ্টা করেছেন তারা। নষ্ট হয়ে যাওয়া যন্ত্রের পার্টস ব্যবহার করে একটা প্রটোটাইপ দাঁড় করাতে চেয়েছেন
মাত্র। এখন তা থেকেই একটি ১২ওয়াটের ডায়নামো ব্যবহার করে জলছে বৈদ্যুতিক বাতি। এবং সেটা কিন্তু ব্রেকারের উপর গাড়ি চালিয়ে নয়, একটি সাইকেল চালিয়ে। তো এত কিছু থাকতে স্পিড ব্রেকার থেকে বিদ্যুৎ পেতে হবে কেন? তেল, গ্যাসের মজুদ যখন শেষের দিকে তখন ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিদ্যুৎ এর নতুন নতুন উৎস খুঁজতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে ভবিষ্যৎপ্রজন্মকে। সোলার, বায়োগ্যাস সহ কত নতুন নতুন পদ্ধতির কথাই চিন্তা করা হচ্ছে। তাদের এই উদ্ভাবনের মূল উদ্দেশ্য কিন্তু সেটাই। আমাদের আশেপাশেই কত কত শক্তির উৎস আছে। কেউ আমাদের চোখে আঙ্গুল
দিয়ে দেখিয়ে দিবে না। আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে। হোক না সেটা ক্ষুদ্র, হয়তো সারাদিনের চার্জ করা ব্যাটারি থেকে রাতে রাস্তার সোডিয়াম বাল্ব গুলোই জ্বালানো গেল; তাও কম কি বলেন?