জানার কোন অন্ত নাই, জানার ইচ্ছা বৃথা তাই, ভেবে যদি জানার ইচ্ছাকে দমন করে রাখা হয় তবে সে জীবনের কোন অর্থ নাই। কিন্তু সব জানতে হবে এমন কোন কথা নাই, তবে জানার ইচ্ছা থাকা চাই। আমাদের এই জানা জানির ইচ্ছাকে সূত্র করে, আমাদের ছোট্ট একটি প্রয়াস ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেইজটি। আমাদের জানতে চাওয়ার ইচ্ছা পুরনের লক্ষে কখনো জেনেছি মহাকাশ নিয়ে, কখনো জেনেছি সমুদ্র নিয়ে, কখনো ডুব দিয়েছি কৌতুক এর মাঝে, আবার ভয়ে কেঁপেছি ভুতের গল্প পড়ে, কখনোবা শিউরে উঠেছি কিছু মানুষের কার্যকলাপ জেনে। কখনো জেনেছি নতুন আবিষ্কারের কথা, আবার জেনেছি আদি ঐতিহ্যের কথা, এত সব কিছু করেছি শুধু জানতে চাওয়ার ইচ্ছা থেকে। সর্বশেষে ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেজ এর পক্ষ হতে আপনাকে স্বাগতম জানাই।

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০১৫

দাড়িওয়ালা ‘মেয়েটি’

ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতা জিতে নিয়ে সাড়া জাগিয়েছিলেন তিনি৷ সেই থেকে ‘ড্র্যাগ কুইন’ কনচিটা ভুয়র্স্ট সংগীত জগতের তারকা৷ সম্প্রতি আত্মজীবনী লিখেছেন দাড়িওয়ালা ‘মেয়েটি’৷ চলছে নতুন অ্যালবামের কাজ৷ তাঁকে নিয়েই আজকের ছবিঘর৷



কনচিটার গল্প
বয়স ২৬৷ এই বয়সেই সাফল্যের অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছেন কনচিটা ভুয়র্স্ট, অর্থাৎ টোমাস নয়ভিয়র্ট৷ হ্যাঁ, গত বছর কনচিটা ভুয়র্স্ট নামে ইউরোভিশন জিতে বিশ্বব্যাপী তারকাখ্যাতি অর্জন করলেও অস্ট্রীয় এই শিল্পীর নাম আসলে টোমাস নয়ভিয়র্ট৷ ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত ইউরোভিশন ২০১৪-য় বাজিমাত করেছিলেন দাড়িওয়ালা মেয়ের চরিত্র কনচিটা ভুয়র্স্ট সেজে গান গেয়ে৷


সবসময়ই আলাদা...
শৈশব থেকেই সংগীত ভালোবাসেন টোমাস নয়ভিয়র্ট৷ সমকামী হওয়ায় অস্ট্রিয়ার মতো দেশেও অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে৷ ফ্যাশন ডিজাইনিংও টানতো তাঁকে৷ তাই ১৪ বছর বয়সেই জন্মস্থান গ্মুন্ডেন ছেড়ে চলে যান গ্রাৎস-এ, শুরু করেন ফ্যাশন ডিজাইনিং বিষয়ে পড়াশোনা৷


তারকা হওয়ার পথে প্রথম পা
সংগীত চর্চা কিন্তু কখনো থামেনি৷ এক সময় তিন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে একটা ব্যান্ড গড়লেন৷ ব্যান্ডের নাম দিলেন ‘ইয়েৎস্ট আন্ডার্স’৷ নামের অর্থ ‘এখন অন্যরকম’৷ এই ব্যান্ড ২০০৬ সালে অস্ট্রিয়ার বেশ বড় একটা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছিল৷ তবে ব্যান্ডের নাম ‘এখন অন্যরকম’ হলেও টোমাস নয়ভিয়র্ট গড়পড়তা মানুষের চেয়ে কত অন্যরকম, আর দশটা মানুষের তুলনায় কত বেশি প্রতিভাবান তা বুঝতে আরো সময় লেগেছে৷

তে 
কনচিটার জন্ম
ফ্যাশন স্কুলের লেখাপড়া শেষ হতেই শুরু হলো ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা৷ মাথায় আসে কাল্পনিক চরিত্র কনচিটা ভুয়র্স্ট৷ তাঁর লম্বা চুল, মেয়েলি চেহারা আর সেই সঙ্গে মুখভরা দাড়ি! এভাবে ড্র্যাগ কুইন সেজে সংগীত শিল্পী হিসেবে নতুন জীবন শুরু করলেন টোমাস নয়ভিয়র্ট৷ তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি৷


ফিনিক্স পাখির মতো....
২০১৪ সালের ইউরোভিশন সং কনটেস্টে অস্ট্রিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন কনচিটা ভুয়র্স্ট৷ ডেনমার্কের রাজধানী হয়ে সারা ইউরোপ কাঁপিয়ে দিলেন ‘রাইজ লাইক আ ফিনিক্স’ গানটা গেয়ে৷ জিতে গেলেন ইউরোভিশন৷ সত্যিই পুরানের ফিনিক্স পাখির মতো উত্থান, কী বলেন?


মহাব্যস্ততা...
ইউরোভিশন জয়ের পর থেকে ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটছে কনচিটার৷ একটা কনসার্ট শেষ হলেই আসে আরেকটার ডাক৷ প্যারিসের বিখ্যাত ‘ক্রেজি হর্স ক্যাবারে’-তে (ওপরের ছবি) পারফর্ম করেছেন৷ ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টেও ডাক পড়েছিল তাঁর৷ সেখানে অবশ্য গান শোনাননি, সবাইকে যৌন সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন৷


আসছে নতুন অ্যালবাম
টোমাস নয়ভিয়র্টের কনচিটা ভুয়র্স্ট হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে ১২৮ পৃষ্ঠার আত্মজীবনীটা ইতিমধ্যে বাজারে এসেছে৷ শিগগিরই প্রকাশ করা হবে তাঁর নতুন গান ‘ইউ আর আনস্টপেবল’৷ পাশাপাশি চলছে নতুন অ্যালবামের কাজ৷ এছাড়া কনসার্ট তো চলছেই৷ এ বছর জার্মানিতেও আসবেন কনচিটা ভুয়র্স্ট৷

সম্পাদনায়ঃ দুরন্ত পথিক

কোন মন্তব্য নেই: