জানার কোন অন্ত নাই, জানার ইচ্ছা বৃথা তাই, ভেবে যদি জানার ইচ্ছাকে দমন করে রাখা হয় তবে সে জীবনের কোন অর্থ নাই। কিন্তু সব জানতে হবে এমন কোন কথা নাই, তবে জানার ইচ্ছা থাকা চাই। আমাদের এই জানা জানির ইচ্ছাকে সূত্র করে, আমাদের ছোট্ট একটি প্রয়াস ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেইজটি। আমাদের জানতে চাওয়ার ইচ্ছা পুরনের লক্ষে কখনো জেনেছি মহাকাশ নিয়ে, কখনো জেনেছি সমুদ্র নিয়ে, কখনো ডুব দিয়েছি কৌতুক এর মাঝে, আবার ভয়ে কেঁপেছি ভুতের গল্প পড়ে, কখনোবা শিউরে উঠেছি কিছু মানুষের কার্যকলাপ জেনে। কখনো জেনেছি নতুন আবিষ্কারের কথা, আবার জেনেছি আদি ঐতিহ্যের কথা, এত সব কিছু করেছি শুধু জানতে চাওয়ার ইচ্ছা থেকে। সর্বশেষে ।। জ্ঞানের সন্ধানে।। পেজ এর পক্ষ হতে আপনাকে স্বাগতম জানাই।

মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০১৩

'জীবাণুগুলো আমাদের খুব পছন্দ করে...', একান্ত সাক্ষাৎকারে মাছি

আজকাল চারিদিকে মাছির পরিমাণ বোধহয় বেশ বেড়ে গেছে। যখন তখন দেখি আশপাশে ঘোরাঘুরি করে। আজকে কানের কাছে ভোঁ ভোঁ শব্দ হতেই তাকিয়ে দেখি একটা বেশ মোটাসোটা মাছি উড়ছে। কী উদ্দেশ্য আল্লাহই জানে! ভোঁ ভোঁ করতে করতেই সে জানালো, বিডিকিডসে তারও সাক্ষাৎকার ছাপাতে হবে। তাছাড়াও সে অভিযোগ জানালো কেন তার আগে মশার সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। তো যাই হোক, তাকে ঠান্ডা করতেই শুরু করলাম তার সঙ্গে কথা বলা-
: আচ্ছা, আপনি কি কানা?
: কেন, আমাকে কানা মনে হলো কেন?
: না, আসলে আমরা প্রায়ই একটা খেলা খেলি, যার নাম কানামাছি ভোঁ ভোঁ। তো আপনি সবসময় ভোঁ ভোঁ করছেন কিনা, তাই ভাবলাম আপনি বোধহয় কানা।
: আমার চোখ নেই, আমি কানা? আমার কয়টা চোখ আছে জানো? আমি নিজেই একদিন আমার চোখ গুনতে বসেছিলাম, ১০হাজার পর্যন্ত গোনার পর ঘুমিয়ে পড়েছি। তবে দুঃখ কী জানো, এতো চোখ থাকলেও আমরা ৩০ ফুটের বেশি দুরের জিনিস দেখতে পারি না। কেউ যদি খুব আস্তে আস্তে নড়াচড়া করে, তাহলে তো আমরা টেরই পাই না। যা হোক, আর এ ধরণের উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করে সময় নষ্ট করবে না। আমার সময়ের অনেক দাম আছে।
: কেন? অন্য কোথাও ইন্টারভিউ দিতে যাবেন নাকি?
: আরে ধুর! ওসব কিছু না। তুমি তো জানো না, আমরা বাঁচি বড়জোর ২০ কি ২১ দিন, এরমধ্যে আমার বয়স ১৫ দিন হয়ে গেছে। সময় নেই, দুনিয়াটা ঘুরে ঘুরে দেখতে হবে না!
: সে কি? এত কম সময় বাঁচেন? তাহলে তো দুনিয়া থেকে এক সময় সব মাছিই নাই হয়ে যাবে।
: তুমি আসলেই বোকা। আমাদের বউরা মানে মেয়ে মাছিরা সব মিলিয়ে ২ হাজারের মত ডিম পাড়ে। তাই তো আমরা এখনও বহাল তবিয়তে টিকে আছি।
: কিন্তু তোমরা তো বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়াও।
: সেটা তো আমাদের দোষ না। জীবাণুগুলো আমাদের খুব পছন্দ করে। আমরা যেখানেই যাই, ওরাও সেখানে যায়। আমরা তো বেশ দ্রুতগতিতে উড়তে পারি, ঘন্টায় আমরা ৪.৫ মাইল পর্যন্ত যেতে পারি। আর আমরা সেকেন্ডে ডানা ঝাপটাই ২০০ বার, যা কিনা হামিংবার্ডের চেয়ে তিন গুণ বেশি।
: আপনারা কি মৌমাছির আত্মীয়?
: হ্যাঁ। আমরা ফড়িংয়েরও আত্মীয়। তবে ওদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য হলো আমাদের ডানা ২টি, ওদের ৪টি।
: আপনাদের কী খেতে ভালো লাগে?
: যা পাই, ময়লা আবর্জনা থেকে শুরু করে সব। আমাদের জিভ হলো আমাদের পায়ে। তোমরা জিভ দিয়ে যে পরিমান খাবারের স্বাদ পাও, আমরা পা দিয়েই তার এক কোটি গুন বেশি স্বাদ পাই।
: বাপরে, আপনারা তো তাহলে বেশ ভোজনরসিক!
: নাহ, ঠিক তা নয়। আমরা খাবার আগে সেই খাবারের উপর বমি করি। এতে সেই খাবারটা নরম হয়। তখন সেটা খাই।
: এ ছিঃ! আপনারা তো খুবই নোংরা, বিরক্তিকর! ঘেন্না!
: হুহ! আচ্ছা, তাই না। মাকড়শাও তো দেখতে বিশ্রী, তোমরা তো তাকে দেখে ‘স্পাইডারম্যান’ বানিয়েছ। জানো, আমরাও উল্টা হয়ে ওয়াল বেয়ে উঠতে পারি! নাহ, দিলে তো মুডটা অফ করে, ধ্যাৎ। চলে যাই, আর সাক্ষাৎকার দেব না ।

কোন মন্তব্য নেই: